Saturday 28th November 2020
আজ শনিবার | ২৮শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

চকরিয়ায় ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে গরু চুরির অপবাদ দিয়ে মা ও মেয়েকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ

সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২০ | ৮:০১ পূর্বাহ্ণ

চকরিয়ায় ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে গরু চুরির অপবাদ দিয়ে মা ও মেয়েকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ
Spread the love

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিরানুল ইসলামের বিরুদ্ধে গরু চুরির অপবাদ দিয়ে মা-মেয়ে ও ছেলেসহ পাঁচজনকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার দুপুরে হারবাং ইউনিয়নের বৃন্দাবনখিল গ্রামে প্রথমদফা মারধরের পর ঘটনাস্থল থেকে কোমরে রশি বেঁধে ইউনিয়ন পরিষদে তুলে এনে তাদেরকে দ্বিতীয়দফা প্রহার করেছে ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মিরান।

অভিযোগ উঠেছে, শাররীক নির্যাতনের পর আটককৃত পাঁচজনকে থানা পুলিশের কাছে সৌর্পদ্দ করা হলে শনিবার সকালে গরু চুরির মামলায় পুলিশ তাদেরকে জেলহাজতে প্রেরণ করেন।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুরে ঘটনাটি সংগঠিত হলেও শনিবার রাত ১১টার দিকে মা-মেয়েকে কোমরে রশি বেঁধে তুলে আনার ছবি স্থানীয় জনগনের ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এরপর নির্যাতনের ঘটনাটি সারাদেশে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম নিয়েছে।
এলাকাবাসির দাবি, গরু চুরি করে নিয়ে যাবার সন্দেহ শুক্রবার দুপুরে হওয়ায় হারবাং ইউনিয়নের বৃন্দাবনখিল গ্রামের স্থানীয় লোকজন একটি সিএনজি অটোরিক্সা আটকিয়ে গাড়ির ভেতর থেকে গরুর বাছুরসহ পাঁচজনকে আটক করেন।
আটককৃতরা হলেন চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার কুসুমপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের মৃত আবুল কালামের স্ত্রী পারভীন আক্তার (৪০), ছেলে ইমরান হোসেন আরমান (২১), মেয়ে সেলিনা আক্তার (২৮), মেয়ে রোজিনা আক্তার (১৭) এবং নিকট আত্মীয় কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের মোঃ দেলোয়ার হোসেনের ছেলে মোহাম্মদ ছুট্টোকে (২৭)।
আটকের পরপর ওইসময় উত্তেজিত লোকজন ঘটনাস্থলে চুরির অপবাদ দিয়ে অটোরিক্সা থেকে নামিয়ে তাদেরকে মারধর করে। পরে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিরানুল ইসলাম বিষয়টি জানার পর তার নির্দেশে কিছু যুবক ঘটনাস্থল থেকে তাদেরকে রশি দিয়ে বেঁধে টানা হেচড়া করে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আসে।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মিজানুর রহমান বলেন, আটক পাঁচজনের বিরুদ্ধে শুক্রবার রাতে গরু চুরির অভিযোগে হারবাং বৃন্দাবনখিল গ্রামের মৃত নুর আহমদের ছেলে মাহবুবুল হক (৬১) বাদী হয়ে একটি মামলা করেন।
তারআগে ইউনি পরিষদ এবং এলাকার লোকজন আটক পাঁচজনের সঙ্গে একটি গরুর বাছুর, ১টি সিএনজি চালিত অটোরিক্সা, ১টি ¯েপ্র, ১টি কসট্যাব ও ১টি ছুরা পুলিশের কাছে সৌর্পদ্দ করে। তিনি বলেন, আটককৃতদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে শনিবার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
অপরদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্র দাবী করেছেন, একই পরিবারের মা, মেয়ে, ছেলে ও তাদের এক আত্মীয়সহ পাঁচজনকে পরিকল্পিতভাবে গরু চুরির অপবাদ দিয়ে শারীরিক নির্যাতনের মাধ্যমে কোমরে রশি বেঁধে প্রথমে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আসে চেয়ারম্যানসহ তার লোকজন।
অভিযোগ প্রসঙ্গে হারবাং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিরানুল ইসলাম মিরান বলেন, অভিযুক্তদের আমি পরিষদের এনে মেরেছি বলে যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা সঠিক না। ওইদিন বিকেল তিনটার দিকে চট্টগ্রাম থেকে এলাকায় ফিরে আসি। পরে গরু চোর আটকের ঘটনাটি জানতে পারি। তাৎক্ষনিক ঘটনাটি চকরিয়া থানা পুলিশ ও ইউএনওকে ফোন করে জানিয়েছি।
তিনি বলেন, সামনে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন তাই বিরোধী পক্ষ আমাকে ফাঁসানোর জন্য নানা ধরনের তৎপরতা চালাচ্ছে।
এদিকে চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নে সংগঠিত ঘটনার জেরে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পক্ষথেকে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে জেলা প্রশাসনের উপ-সচিব পদ মর্যাদার কর্মকর্তা শ্রাবস্তী রায়কে প্রধান করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ সামসুল তাবরীজ।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ শামসুল তাবরীজ বলেন, ঘটনারদিন বিষয়টি স্থানীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে জেনেছি। আমি তখন গরু চোরদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করার নির্দেশ দিয়েছি।
তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় জেলা প্রশাসকের নির্দেশে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। এতে উপ-সচিব শ্রাবস্তী রায়কে প্রধান করা হয়েছে। এই কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন চকরিয়া উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভুমি) ও একজন হারবাং ইউনিয়নের ট্যাগ অফিসারকে দেয়া হয়েছে। বিষয়টি আমি নিজেই খতিয়ে দেখছি।
অভিযুক্তরা যদি মনে করে তাদের অপমান বা হয়রানি করা হয়েছে তাহলে তাদের অভিযোগও আমলে নেয়া হবে।’##

-Advertisement-
Recent  
Popular  

Our Facebook Page

-Advertisement-
-Advertisement-