Saturday 28th November 2020
আজ শনিবার | ২৮শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

খালের জাল ও বাঁধ কেটে জলাবদ্ধতা নিরসন পেকুয়ার কৃষকরা রোয়ার দেয়ার কাজে ব্যস্ত

নিজস্ব সংবাদদাতা

রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২০ | ৯:৪০ পূর্বাহ্ণ

খালের জাল ও বাঁধ কেটে জলাবদ্ধতা নিরসন পেকুয়ার কৃষকরা রোয়ার দেয়ার কাজে ব্যস্ত
Spread the love

কক্সবাজারের পেকুয়া সদর ইউনিয়নে পেকুয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহসভাপতি সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম ঝটিকা অভিযান চালিয়ে খালের বাঁকে বাঁকে বসিয়ে রাখা পানি চলাচলে বিঘ্নসৃষ্টিকারী অবৈধ মাছ ধরার জাল ও বেড়া তুলে দিয়েছেন। শুস্ক মৌসুমে খালে দেওয়া কয়েকটি সেচ বাঁধের অবশিষ্টাংশও কেটে দিয়ে স্লইচ গেটের জলকাপাট পরিস্কার করে পানি চলাচলে ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। এতে পেকুয়া সদর ইউনিয়নের দক্ষিণাংশের কৃত্রিম জলাবদ্ধতা কেটে গিয়ে কৃষকরা ভাদ্র মাসে এসে হলেও আমনের শেষ রোয়া দেওয়ার জন্য মাঠে নেমেছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে কয়েকদিনের মধ্যে কৃষকরা আমনের রোয়ার কাজ শেষ করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে। গত ৩দিন ধরে পেকুয়া সদরের বিভিন্ন খালে তিনি এ অভিযান পরিচালনা করেন। এ ব্যাপারে সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম বলেছেন, চকরিয়া পেকুয়ার এমপি জাফর আলম বিএ(অনার্স)এমএ আমাকে সাহস দেন, সহযোগিতা দেন। আমার প্রতিটি কাজে তার আস্থা আছে, তাই আমি এলাকা ও এলাকার মানুষের জন্য কাজ করতো দ্বিগুন উৎসাহী হয়।
এলাকাবাসী জানায়; পেকুয়া উপজেলার পেকুয়া সদর ইউনিয়নের দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় ১ হাজার একর আমন চাষোপযোগী জমি বর্ষার পুরোটা সময় পানিতে ডুবে থাকে। অভ্যন্তরীন খাল গুলোর কয়েকস্থানে রয়েছে শুষ্ক মৌসুমে দেওয়া বেশ কয়েকটি সেচ বাঁধ, মাছ চাষের জন্য অবৈধ বাঁধ, খালের বাঁকে বাঁকে রয়েছে মাছ ধরার অসংখ্য জাল ও বেড়া। এতে বৃষ্টির পানি নদীতে বের হয়ে যেতে পারে না। ফলে প্রতিবছরই দেখা দেয় স্থায়ী জলাবদ্ধতা। রোয়া দেওয়ার সময় চলে যাওয়ার পরও কৃষকরা তাদের জমিতে আমনের রোয়া দিতে পারে না। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। পেকুয়ার দক্ষিণাঞ্চলে বিস্তীর্ণ এলাকায় আমনের জমিতে শ্রাবণ মাসের শেষ দিকে কৃষকরা রোয়ার কাজ শুরু করেছিলেন। কিন্তু রোয়ার কাজ চালিয়ে যাওয়ার কিছুদিন পর আবারও প্রবল বৃষ্টি শুরু হলে আমনের প্রায় ১ হাজার একর জমি ও নতুন রোয়া সব ডুবে যায়। কৃষকরা চরম হতশায় পড়ে যায়। এ অবস্থায় সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম উদ্যোগ নিয়ে পেকুয়ার অভ্যন্তরীন খালের পানি চলাচলে ব্যঘাত সৃষ্টিকারী সেচ বাঁধ, মাছ চাষের জন্য দেওয়া অবৈধ বাঁধ ও খালে বেড়া দিয়ে পানি চলাচলে প্রতিবন্ধীকতা সৃষ্টি করে দেওয়া বেড়া ও জাল তুলে দেয়ায় কৃষকরা মাঠে নামতে পারছে।
পেকুয়া সদরের গোয়াখালী টেকপাড়ার কৃষক আবুল হোসেন জানান, সদ্য রোপিত আমনের রোয়া ও কর্ষণ করা জমি ডুবে গেলে তা পেকুয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহসভাপতি সাংবাদিক জহিরুল ইসলামকে জানানো হয়। এরপর তিনি ছুটে এসে নৌকা ভাড়া নিয়ে খালে খালে গিয়ে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে গুলদিঘী খাল সহ অভ্যন্তরীন বিভিন্ন খালের পানি চলাচলে প্রতিবন্ধক বেড়া ও মাছ ধরার জাল তুলে দেন। গত বৃহস্পতিবার থেকে ৩দিন ধরে তিনি এ অভিযান পরিচালনা করেন। এসময়ে তিনি খালে দেওয়া বেড়া ও জাল, শুষ্ক মৌসুমে দেওয়া কয়েকটি সেচবাঁধ ও স্লইচ গেটে জলকপাট খুলে দেন। এ অভিযানের পর এখন বিলের প্রায় ১ হাজার একর জমির পানি দ্রুত নেমে যাওয়ায় শুক্রবার থেকেই কৃষকরা আবার মাঠে নেমে রোয়ার কাজ শুরু করেছেন। কয়েকদিনের মধ্যেই তাদের বিলে রোয়ার কাজ শেষ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
পেকুয়া সদরের মইয়াদিয়ার কৃষক ফিরোজ আহমদ জানান, সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম প্রতি বছরই এলাকায় কোন দুর্যোগ হলেই এগিয়ে আসেন। তিনি প্রতি বছর পেকুয়ার সাধারণ মানুষের জন্য যা করেন তা বলে শেষ করা যাবে না। তিনি ২০১৫ সালের বন্যার সময় ভেঙ্গে যাওয়া বেড়িবাধের ২৩টি ভাঙন নিজে উদ্যোগ নিয়ে পুনঃনির্মাণ করে দেন। গত বর্ষার সময় পেকুয়া সদরের ৮ ওয়ার্ড় আলেকদিয়া এলাকায় বেড়িবাধের ভাঙন অংশ তিনিই পুণঃনির্মণ করে দিয়েছেন। কৃষক ফিরোজ আহমদ মন্তব্য করে বলেন, তার কাজের ফিরিস্তি আমি বলে শেষ করতে পারবো না, আপনিও লিখে শেষ করতে পারবেন না। পেকুয়া সদরে তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি কোন বিনিময় ছাড়া সাধারণ মানুষের প্রতিটি কাজে এগিয়ে এসে সহযোগিতা দিয়ে থাকেন। ২০১৫ সালের ভয়াবহ বন্যার সময় তিনি নগদ অর্থ দিয়ে, নিজের শ্রম দিয়ে যদি এগিয়ে না আসতেন তাহলে বেড়িবাঁধের ভাঙন গুলো পুনঃনির্মাণ সম্ভব হতো না। তার প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড় এ বছর প্রায় ১ কোটি টাকার ব্যয়ে বেড়িবাঁধ পুনঃনির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কয়েক লাখ টাকা ব্যয়ে পেকুয়ার ১৪টি স্লইচ গেটের জলকপাট নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে। ২০১৫ সালের ওই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ বন্যার পর সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম একটি বেসরকারী সংস্থাকে পেকুয়ায় নিয়ে এসে নিজ হাতে কৃষকদেরকে অফেরত যোগ্য প্রায় ১ কোটি টাকা নগদ অর্থ সহায়তা দিয়েছেন। ঠিক এ বছরও মহামারি করোনা দুর্যোগের সময় তিনিই ওই একই বেসরকারী সংস্থাকে নিয়ে এসে কয়েক কোটি টাকার খাদ্য ও অর্থ সহায়তা নিয়ে কর্মহীন হয়ে পড়া নিন্ম আয়ের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এমন কি সাংবাদিক জহিরুল ইসলামকে পেকুয়ার ভাঙগাচুরা রাস্তা ঘাটেও ইট নিয়ে মেরামত কাজে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। এভাবে তিনিই আছেন আমাদের প্রতিটি কাজে। #

-Advertisement-
Recent  
Popular  

Our Facebook Page

-Advertisement-
-Advertisement-