Saturday 28th November 2020
আজ শনিবার | ২৮শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

অপপ্রচার ও শেখ কামাল

সায়েদুল আরেফিন

শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২০ | ৯:৫৮ পূর্বাহ্ণ

অপপ্রচার ও শেখ কামাল
Spread the love

বিজয় দিবসের আগের রাত, ১৯৭৩ সাল। ঢাকায় গুজব ছড়িয়ে পড়ে, জাসদের গণবাহিনী অথবা সিরাজ শিকদার তার দলবল নিয়ে এসে ঢাকা শহরের বিভিন্নস্থানে হামলা চালাতে পারেন। এ অবস্থায় সাদা পোশাকে পুলিশ গাড়ি নিয়ে শহরজুড়ে টহল দিতে থাকে। জাসদ বা সর্বহারা পার্টির লোকজনের খোঁজে শেখ কামালও তার বন্ধুদের নিয়ে মাইক্রোবাসে করে ধানমণ্ডি এলাকায় বের হন। সিরাজ শিকদারের খোঁজে টহলরত পুলিশ মাইক্রোবাসটি দেখতে পায় এবং আতংকিত হয়ে কোনো সতর্ক সংকেত না দিয়েই গুলি চালায়। শেখ কামাল ও তার বন্ধুরা গুলিবিদ্ধ হন। গুলি শেখ কামালের কাঁধে লাগে। তাকে তখনকার পিজি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ইতিহাসের কুখ্যাত কতিপয় চক্রান্তকারীর সীমাহীন ছলনাময় চক্রান্তের কারণে শেখ কামালের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংক ডাকাতির অপবাদ রটানো হয়েছিল এবং তা এখনো ক্ষেত্রবিশেষে বার বার বঙ্গবন্ধু পরিবারের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়। আসলে সেদিন কী ঘটেছিল? প্রত্যক্ষদর্শী সেই বিএনপি নেতা বিএনপির মন্ত্রী টুকু, তার বর্ণনায় জীবন্ত হয়ে উঠেছিল প্রেক্ষাপটটি।

শেখ কামাল সেদিন আড্ডা দিচ্ছিলেন কয়েক বন্ধুকে নিয়ে। রাত তখন আনুমানিক ৯টা কি সাড়ে ৯টা। আজকের বেক্সিমকো গ্রুপের অন্যতম কর্ণধার সালমান এফ রহমান যিনি কিনা শেখ কামালের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন, ফোন করলেন হঠাৎ করেই। অর্থাৎ সেই রাতে। জানালেন নতুন একটি ভক্স ওয়াগন কোম্পানির মাইক্রোবাস কিনেছেন।

টেলিফোনের এ প্রান্তে শেখ কামাল খুশিতে লাফ দিয়ে উঠলেন এবং সালমান রহমানকে অনুরোধ করলেন গাড়িটি একটু পাঠিয়ে দেওয়ার জন্য। উদ্দেশ্য নতুন গাড়িতে চ’ড়ে ঢাকা শহরটি একটু চক্কর দেওয়া। অনুরোধ মতে গাড়িটি এলো রাত আনুমানিক ১০টার দিকে। উপস্থিত বন্ধুরা শেখ কামালকে প্রস্তাব করলেন পুরাণ ঢাকার চিনুর বিরিয়ানির দোকানে গিয়ে বিরিয়ানি খাওয়ানোর জন্য। যেই কথা সেই কাজ, শেখ কামাল আরও দু’তিন বন্ধুকে কোন করলেন, ফোন করলেন বিএনপি’র মন্ত্রী টুকুকেও। তিনি প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে নতুন গারীতে ছড়া আর চিনুর বিরিয়ানীর লোভে বললেন এলিফ্যান্ট রদের তার বাসা থেকে তাঁকে তুলে নেওয়ার জন্য। রাত সাড়ে ১০টায় এলিফ্যান্ট রোড থেকে তাকে তুলে শেখ কামাল ও তার বন্ধুরা কাকরাইল, জোনাকি সিনেমার সামনের রোড দিয়ে ফকিরের পুল হয়ে গুলিস্তান এবং গুলিস্তান হয়ে বংশাল যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। অর্থাৎ রাতের নিরিবিলি ঢাকায় নতুন গাড়িতে চড়ার আনন্দ উপভোগ। এভাবেই তারা কাকরাইল মোড় পর্যন্ত এগোলেন। বিপত্তি বাঁধলো মোড় পার হওয়ার পরই। এই বিপত্তি নিয়ে কিছু বলার আগে তৎকালীন রাজনীতি নিয়ে সংক্ষিপ্ত কিছু না বললেই নয়।
বঙ্গবন্ধু সরকারকে সমূলে বিনাশ করার জন্য যে সব দেশি-বিদেশি প্রবল প্রতিপক্ষ কাজ করছিল তাদের মধ্যে মরহুম সিরাজ সিকদারের সর্বহারা পার্টি বা নকশালেরা অন্যতম। এরা মূলত আন্ডারওয়ার্ল্ডে থেকে অপতৎপরতা চালাতো। তখনকার নকশালীদের গুম, হত্যা, ডাকাতির বীভৎস রূপ এবং অস্ত্রের ঝনঝনানি সারাদেশে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। অন্যদিকে জাসদ নামক রাজনৈতিক দলটির গণবাহিনীর তৎপরতা ছিল আরও ভয়াবহ। তারা রাজনীতি করতো জাসদের নামে, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাত ‘গণবাহিনী’র নামে এবং অপপ্রচার চালাতো ‘গণকন্ঠ’ নামে তাদের মালিকানায় প্রকাশিত দৈনিক পত্রিকার মাধ্যমে। আজকের মাননীয় মন্ত্রী জনাব হাসানুল হক ইনু, মহাজোটের এমপি মঈনউদ্দিন খান বাদল প্রমুখ ছিলেন জাসদ গণবাহিনীর লিডার, যাদের মূল উদ্দেশ্যই ছিল বঙ্গবন্ধুর রাজনীতি সমূলে বিনাশ করা। জাসদ গণবাহিনীর অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা সন্ধ্যার পর ঢাকার অলিগলিতে বের হয়ে পড়ত এবং খুন, রাহাজানি, ডাকাতি, অপহরণের মাধ্যমে সরকারকে অচল করার অপপ্রয়াস চালাত। সরকারও সর্বশক্তি দিয়ে এদের দমনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল। রক্ষীবাহিনী ও পুলিশের বিশেষ টিম সারা রাত গণবাহিনীর গুণ্ডাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চালাত। বীর মুক্তিযোদ্ধা এসপি মাহবুব উদ্দিন আহমদ তখন পুলিশের কয়েকটি টিম পরিচালনা করতেন। গণবাহিনী এবং নকশালদের দমন করার জন্য এসপি মাহবুবের টিমগুলোর আবার পরিচিতি হতো টিম লিডারের নামানুসারে, একটি টিমের নাম ছিল ‘কিবরিয়া বাহিনী’। আমরা যে রাতের কথা বলছি সেই রাতে কাকরাইল পল্টন এলাকায় টহলের দায়িত্বে ছিল এই কিবরিয়া বাহিনী। তারা সাদা পোশাকে সশস্ত্র অবস্থায় প্রাইভেট গাড়িতে ঘুরত মূলত গণবাহিনী বা নকশালীদের ধরার জন্য। সন্দেহভাজন কাউকে দেখলেই চ্যালেঞ্জ করত এবং ক্ষেত্রবিশেষে গুলি চালাত।

শেখ কামাল ও তার বন্ধুরা যখন কাকরাইল মোড় পার হলেন তখন সামনে একটি প্রাইভেট কারে কয়েকজন সশস্ত্র লোককে দেখতে পেলেন। তারা মনে করলেন প্রাইভেট কারটি হয়তো গণবাহিনীর গুণ্ডাদের বা নকশালীদের। মাইক্রোবাসটি প্রাইভেট কারের চেয়ে উঁচু এবং উজ্জ্বল হেড লাইটের কারণে শেখ কামাল ও তার বন্ধুরা গাড়ির আরোহীদের দেখতে পাচ্ছিলেন। অন্যদিকে গাড়ির আরোহী সাদা পোশাকধারী পুলিশের কথিত কিবরিয়া বাহিনীর সদস্যরা মাইক্রোবাসের উচ্চতার কারণে ভেতরের আরোহীদের দেখতে পাচ্ছিলেন না। কাকরাইল মোড় পার হয়ে শেখ কামালদের গাড়ি যখন নাইটিঙ্গেল রেস্তোরাঁ অতিক্রম করছিল তখন তাদের তারুণ্যময় অ্যাডভেঞ্চারে পেয়ে বসল। তারা মনে করলেন সামনের গাড়িটি গণবাহিনী বা নকশালীদের। ভুলে গেলেন চিনুর বিরিয়ানির কথা। ভাবলেন কোনোমতে যদি ওই সন্ত্রাসীদের ধরা যায় তাহলে সারা দেশে হয়তো একটি ধন্যধন্য রব পড়ে যাবে। তারা গাড়িটি ধাওয়া করলেন। রাত তখন ১১টা। অন্যদিকে প্রাইভেটকারে বসা কিবরিয়া বাহিনীর সদস্যরা মাইক্রোবাসের আরোহীদের মনে করলেন গণবাহিনীর সন্ত্রাসী। পুলিশের গাড়ি হঠাৎ মতিঝিল থানার মধ্যে ঢুকে পড়ল। তাদের অনুসরণ করে শেখ কামাল ও তার বন্ধুরাও মতিঝিল থানা কম্পাউন্ডে ঢুকে পড়লেন। এরপর পুলিশ সদস্যরা গাড়ি থেকে নেমে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে লাগলেন মাইক্রোবাসে বসা শেখ কামাল ও তার বন্ধুদের ওপর। সবাই মারাত্মক জখম হলেন কেবল বিএনপির এই নেতাটি ছাড়া। এরই মধ্যে পুলিশ বাহিনী যখন বুঝতে পারল আসল ঘটনা তখন আহতদের সঙ্গে সঙ্গে পিজি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলো। বঙ্গবন্ধু পরিবার তখন জানে না ঘটনা সম্পর্কে। রাত আনুমানিক ৩টার দিকে বিএনপি নেতাটি ধানমণ্ডি বত্রিশ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবনে ঢুকে শেখ জামালকে খবরটি দিয়ে পুনরায় ঢাকা মেডিকেলে চলে এলেন।

পর দিন দুপুরে বঙ্গবন্ধু ডেকে পাঠালেন বিএনপির মন্ত্রী টুকুকেও। তিনি যখন পেঁৗছালেন তখন বঙ্গবন্ধু খাচ্ছিলেন। আজকের প্রধানমন্ত্রী খাবার টেবিলের পাশে দাঁড়িয়ে জাতির পিতাকে খাওয়াচ্ছিলেন। ছেলের বন্ধুর দিকে তাকিয়ে তিনি হুঙ্কার ছাড়লেন- “রাত ১১টার সময় কী ভদ্র লোকের ছেলেরা বাইরে যায়?’ ব্যাস। শেখ কামালের বন্ধুটি তো ভয়ে থর থর। বঙ্গবন্ধু ছেলের বন্ধুর মানসিক অবস্থা বুঝতে পারলেন। আর কিছু না বলে হুকুম করলেন, “হাসু ওকে ভাত দে”। ওই দিনের খাবারের মেনু ছিল শাক, ডাল আর কৈ মাছ। নেতাটি ভীতসন্ত্রস্ত এবং বিহ্বল হয়ে খাওয়া শুরু করলেন। কিন্তু গিলতে পারছিলেন না। বঙ্গবন্ধু লক্ষ্য করলেন এবং আজকের প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ করে বললেন, “ও তো শুধু শাক দিয়ে খাচ্ছে। মাছ খাচ্ছে না। ওকে মাছ খেতে বল। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানতেন যে তার ভাইয়ের এই বন্ধুটি মাছের কাঁটা বেছে খেতে পারেন না। তাই তিনি উত্তর করলেন, “ঠিক আছে, আমি ওর মাছের কাঁটা বেছে দিচ্ছি”।
যে চার জনকে জিজ্ঞাসা করলে এসব কথার সত্যতা পাওয়া যাবে। সেই চারজন হলেন-
১) তৎকালীন পুলিশ সুপার মাহাবুব আলম (বীরবিক্রম)। যাকে এক নামে সবাই এসপি মাহবুব নামে চিনেন। যার নেতৃত্বে সেদিন পুলিশ দুষ্কৃতকারীদের ধরতে এসেছিল।
২) সেই সময়কার ‘দৈনিক মর্নিং নিউজ’ এর সম্পাদক প্রবীণ সাংবাদিক এ.বি.এম মুসা। যিনি ঘটনার পরদিন পত্রিকায় সত্য ঘটনাটি তুলে ধরেছিলেন (উনি কিছুদিন আগে মারা গেছেন)।
৩) বর্তমানে বিএনপির নেতা ইকবাল হাসান টুকু। যে মাইক্রবাসে কামাল ছিলে সেখানে তার এই বন্ধুও ছিলেন।

তৃতীয় সাক্ষী নিয়ে একটা কথা: গত কিছু আগে খালেদা জিয়া ঢাকার এক জনসভায় ভাষণে আ:লীগকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন ‘’ব্যাংক ডাকাতি তো তাদের রক্তে মিশে আছে।“ ম্যাডাম আর কত মিথ্যা বলবেন? নিজের গায়ে দুর্গন্ধ রেখে অন্যের বগলে গন্ধ খোজার দরকার কি? একটু নিজের দলে খোজ নেন সত্যটা আপনার চোখের সামনে প্রতিনিয়ত।
৪) জাপা’র প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ। যিনি কামালদের সিনিয়র হলেও, কামালদের সাথে প্রায় বন্ধুর মতো চলাফেরা করতেন এবং সেদিন তিনিও ঐ গাড়িতে ছিলেন।

‘শেখ কামাল, ডালিমের বৌ অপহরণকারী’
মিথ্যাবাদীরা বঙ্গবন্ধু হত্যার সাথে ডালিমের সম্পৃক্ততা বুঝানোর জন্য, এই মিথ্যাটাও অহরহ বকে যায়। কিন্তু, ডালিম নিজেই তার লেখা বইতে এ বিষয়ে স্পষ্ট করে গেছে, সেদিন কি ঘটনা ঘটেছিল। ইচ্ছে করলে ডালিমের লেখা “যা দেখেছি যা বুঝেছি যা করেছি “বইটি পড়ে নিতে পারেন। তারপরও যাদের অল্প পড়ার অভ্যাস তাদের জন্য ডালিমের লেখা হতে সংক্ষিপ্ত আকারে বলছি-
ঘটনার দিন ঢাকা লেডিস ক্লাবে ডালিমের খালাতো বোন তাহমিনার বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল কর্নেল রেজার সাথে। সেই অনুষ্ঠানে সামরিক-বেসামরিক অনেক লোক উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন ঢাকা জেলা আ:লীগের নেতা ও রেডক্রস এর সভাপতি গাজী গোলাম মোস্তফার পরিবার। ডালিমের কানাডা ফেরত শ্যালক বাপ্পি’র চুল টানা নিয়ে গাজীর ছেলেদের সাথে কথা কাটাকটি ও হাতাহাতি হয়। বিষয়টা নিয়ে গাজী সশস্ত্র লোকজন নিয়ে ক্লাবে এসে ডালিম, ডালিমের বৌ নিন্মি ও তাদের পরিবারের আরও কয়েকজনকে উঠিয়ে নিয়ে যায়। বিষয়টা শেষ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর হাতেই নিষ্পত্তি হয়। কিন্তু মিথ্যাবাদী শয়তানেরা যুগ যুগ ধরেই এই অপবাদ দিয়ে এসেছে শেখ কামালের বিরুদ্ধে।

ভারত থেকে ইচ্ছামত টাকা ছাপানো আর বঙ্গবন্ধু পরিবারের সম্পদ-

স্বাধীনতার পর ভারত থেকে ইচ্ছনুসারে টাকা ছাপিয়ে আনা হয়। যদি টাকা ছাপিয়ে আনা যায় তাহলে ব্যাংক ডাকাতি কেন? দেশের স্থপতি, প্রধানমন্ত্রী বা যার কথাই আইন তার ছেলের কি ব্যাংক ডাকাতি করার প্রয়োজন আছে? দেশের শীর্ষ ধনী হওয়ার জন্য তারেক রহমান বা কোকোর কি ব্যাংক ডাকাতি করতে হয়েছে? তারা কি তাদের অর্থ বা সম্পদ লুকাতে পেরেছে? বঙ্গবন্ধু হতাকাণ্ডের পর কেউ কি দেখাতে পেরেছে বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের কোন ব্যাংক একাউন্ট বা কোন সম্পদ? সেনাবাহিনীর জব্দকৃত তালিকায় বঙ্গবন্ধুর একাউন্টে মাত্র ১২ হাজার টাকা ছাড়া কারও নামে কোন সম্পদ পাওয়া যায় নি। জীবন দেয়ার পরও জাতির পিতার পরিবার নিয়ে অপপ্রচার কি এখনো শেষ হবে না!
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বড় ছেলে শেখ কামালের বিয়ের মূল্যবান সব উপহার সরকারি তোষাখানায় জমা দেওয়া হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর একান্ত সচিব ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বাসসকে এ কথা বলেন। “শেখ কামাল এবং সুলতানা কামালের বিয়েটা হয় পঁচাত্তরের প্রথমদিকে। বিয়েতে যে সব মূল্যবান উপহার পাওয়া গিয়েছিল বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে এবং বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের প্রত্যক্ষ সহায়তায় আমরা সরকারি তোষাখানায় জমা দিয়েছিলাম,” বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিচারণ কালে তাঁর একান্ত সচিব বাসসকে এ কথা বলেন। ড.মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন, ‘স্বভাবতই শেখ কামালের বিয়েতে অনেক দামি দামি উপঢৌকন এসেছিল। একটা সোনার নৌকা এবং একটা মুকুট রাখা হয়েছিল অ্যাজ এ সিম্বল। বাকি সব সরকারি তোষাখানায় জমা দেওয়া হয়েছিল। যে কারণে বঙ্গবন্ধুকে বর্বরতম ভাবে হত্যা করার পর তারা শ্বেতপত্র প্রকাশ করার চেষ্টা করল। তন্ন তন্ন করে ৩২ নম্বরের বাড়িটা খুঁজল।কিন্তু তারা কিছুই পায়নি। কিচ্ছু পায়নি। বিদেশ থেকেও দামি দামি উপহার এসেছিল। সেগুলোও সরকারি তোষাখানায় জমা দেওয়া হয়।”শেখ কামালের বিয়ে নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে একটি মিথ্যে রটনার জবাবে ফরাসউদ্দিন বলেন, সুলতানা কামালের বাবা দবির উদ্দিন আহমেদ সাহেব ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ার। দস্তুরমত আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সুলতানা কামাল এবং শেখ কামালের বিয়ে হয়। শেখ জামালের স্ত্রী ছিলেন সৈয়দ হোসেন সাহেবের মেয়ে। জামালের ফুফাতো বোন। তাদের দু’জনের বিয়েও একেবারে পারিবারিক ভাবে পাকা হয়। জামাল এবং কামালের বিয়েটা ৭৫ এর প্রথম দিকে অর্থাৎ মার্চের মধ্যে হয়েছে। পঁচাত্তরের ওই সময়টাই একটু আনন্দের। তিনি বলেন, “বঙ্গবন্ধুর পরিবারের প্রতিটি আনুষ্ঠানিকতার সাথে আমি যুক্ত ছিলাম। নিজে সব প্রত্যক্ষ করেছি। জামাল যাকে বিয়ে করেছিলো, সৈয়দ হোসেন সাহেবের মেয়ে। সে একবার লেকের পানিতে পড়ে গিয়েছিলো। আমি তাকে তুলে এনেছিলাম। আমার মাঝে মাঝে মনে হয় সেদিনই মরে গেলে বোধহয় ভালো ছিল । এমন নির্মমভাবে আর্মিদের গুলিতে মরার চেয়ে তো ভালো হত!” শেখ কামালের বিরুদ্ধে ব্যাংক ডাকাতির অপপ্রচার সম্পর্কে ফরাসউদ্দিন বলেন, “এটা খুব ইন্টারেস্টিং। শেখ কামাল তখন ইয়ং ম্যান। একটা আদর্শ আছে। স্বাধীনতা সংগ্রামে পার্টিসিপেট করেছেন। অ্যাবসুলেটলি নো রিলেশনশিপ (অব কামাল) উইথ এনি ব্যাংক ডাকাতি।” তিনি বলেন, দেশে তখন একটা প্রতিকুল অবস্থা বিরাজ করছে। সন্ত্রাস দমন করার চেষ্টা চলছে। জাসদের কিছু হঠকারিতা কাজ করছিল। কিছু হলেই সর্বহারাদের উপদ্রব। স্বভাবতই সে (শেখ কামাল) একটা মাইক্রোবাস নিয়ে তাঁর কিছু বন্ধুবান্ধব নিয়ে ব্যাংক পাড়ায় টহল দিচ্ছিলেন। একটা পুলিশের গাড়িও টহল দিচ্ছিল। তারা ভাবছে যে এরা বোধহয় সশস্ত্র। এরা বোধ হয় ডাকাতি করতে বের হয়েছে। এভাবে এক গাড়ি আরেক গাড়িকে চেজ করছে। পুলিশ হয়তো মনে করেছে যে এরা ইন-সার্জেন্ট। ফরাসউদ্দিন জেনারেল মইনুল হোসেন চৌধুরীর ‘এক জেনারেলের নীরব সাক্ষ্য’ বইয়ের বরাত দিয়ে বলেন, জেনারেল মঈনুল হোসেন কখনই আওয়ামী লীগার ছিলেন না। সোজা সিরাতুল মোস্তাকিম সেনা। বিএনপিও না। আওয়ামী লীগও না। ইফ এনিথিং রিটেন মে বি এন্টি আওয়ামী লীগ। তিনি আমার ক্লাসমেট। আমি তাকে জানি। খুব কাছে থেকে দেখেছি। ৫৪ থেকে তাকে জানি। কামালের বিষয়টি একদম পরিষ্কারভাবে তিনি লিখেছেন যে, “এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা।” আমিও জানি। আমরা কয়েকজন লোক জানি। জেনারেল মঈন লিখেছেন। আরও যারা প্রত্যক্ষভাবে দেখেছেন তারা কেন জানি না মুখ খোলেন না। আমি বলছি, কারণ আমার প্রত্যক্ষ নলেজ আছে”।

(ইন্টারনেটের বিভিন্ন লেখা থেকে সংকলিত)
সায়েদুল আরেফিন

-Advertisement-
Recent  
Popular  

Our Facebook Page

-Advertisement-
-Advertisement-