Saturday 28th November 2020
আজ শনিবার | ২৮শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

ঈদুল আজহা ও নজরুল

শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২০ | ৯:৪৭ অপরাহ্ণ

ঈদুল আজহা ও নজরুল
Spread the love

সারাবিশ্ব এখন অতিমারীর কবলে।এর মধ্যেও জীবন বহমান। থেমে নেই কোনো কিছু। স্বাস্হ্যবিধিকে উপেক্ষা করে একান্ত প্রয়োজনে মানুষ ঘরের বাইরে। ঈদুল আজহা অত্যাসন্ন। রাত পোহালেই কুরবানির ঈদ। মুসলমানদের দ্বিতীয় প্রধান ধর্মীয়-সামাজিক অনুষ্ঠান। আরবি শব্দ”কুরবানি” অর্থ নৈকট্য। মানে আল্লাহর নৈকট্য।একইভাবে “ঈদুল আজহা”র অর্থ ত্যাগের উৎসব।

‌ইসলামের সাংস্কৃতিক ইতিহাসের বর্ণনা মতে,মহান আল্লাহ তাআ’লা ইসলামের রাসুল হযরত ইব্রাহিম (আ.) কে স্বপ্নযোগে তাঁর সবচেয়ে প্রিয় বস্তুটি কুরবানি করার নির্দেশ দেনঃতুমি তোমার প্রিয়বস্তু আল্লাহর নামে কুরবানি কর।” ইব্রাহিম স্বপ্নে আদেশপ্রাপ্ত হয়ে ১০টি উট কুরবানি করলেন,পুনরায় তিনি আবারও একই স্বপ্ন দেখলেন,অতঃপর তিনি আবার ১০০ টি উট কুরবানি দিলেন। এরপরও তিনি একই স্বপ্ন দেখে ভাবলেন, আমার কাছে তো এখন প্রিয় পুত্র ইসমাইল ছাড়া আর কোনো প্রিয়বস্তু নেই। তখন তিনি পুত্রকে কুরবানির প্রস্তুুতিসহ আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন।
এসময় শয়তান আল্লাহর আদেশ পালন না করার জন্য ইব্রাহিম ও তাঁর পরিবারকে প্রলুব্ধ করেছিলো, এবং ইব্রাহিম শয়তানকে পাথর ছুঁড়ে মেরেছিলেন।শয়তানকে তাঁর প্রত্যাখানের কথা স্মরণে হজের সময় শয়তানের অবস্থানের চিহ্নস্বরূপ নির্মিত ৩টি স্তম্ভে প্রতিকী পাথর নিক্ষেপ করা হয়। যখন ইব্রাহিম (আ.) আরাফাতের পর্বতের উপর তাঁর পুত্রকে কুরবানি দেয়ার জন্য গলায় ছুরি চালানোর চেষ্টা করলেন, তখন তিনি বিস্মিত হয়ে দেখেন যে,তাঁর পুত্রের পরিবর্তে একটি প্রাণি কুরবানি হয়েছে এবং তাঁর পুত্র অক্ষত। ইব্রাহিম আল্লাহর আদেশ পালন দ্বারা কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

এ ঘটনাকে স্মরণ করে প্রতিবছর মুসলমানেরা আল্লাহ’র সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য হিজরি সনের জিলহজ মাসের ১০-১২ তারিখের মধ্যে পশু কুরবানি দেয়।এ দিনে মুসলমানেরা ফজরের নামাজের পর ঈদগাহে গিয়ে দু’রাকাত ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করে ও অব্যবহিত পরে স্ব-স্ব আর্থিক সামার্থ্য অনুযায়ী গরু,ছাগল,ভেড়া,মহিষ,উট ও দুম্বা আল্লাহর নামে কুরবানি করে।

কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর “শহিদী ঈদ” কবিতায় কুরবানির তাৎপর্যকে জীবন্ত করেছেন তাঁর চেতনায়,স্বর ও সুরে।খুব সম্ভবত নজরুলের চেয়ে কবিতায় কুরবানির ফজিলতকে,এর সামাজিক ও রাজনৈতিক গুরুত্বকে অন্য কোনো কবি এতো জীবন্ত উপস্থাপন করতে পারেননি।উল্লেখিত কবিতাটি ষোলটি স্তবকে বিভক্ত। ছয় লাইন করে প্রতিটি স্তবক মোট ছিয়ানব্বই লাইনে কবিতাটির নির্মাণ।এখানে প্রথম তিনটি স্তবক ও শেষ স্তবক উপস্থাপিত হলোঃ


শহিদের ঈদ এসেছে আজ
শিরোপরি খুন-লোহিত তাজ,
আল্লাহ রাহে চাহে সে ভিখঃ
জিয়ারার চেয়ে পিয়ার যে
আল্লাহর রাহে তাহারে দে,
চাহি না ফাঁকির মণিমানিক।

চাহিনা কো গাভি দুম্বা উট,
কতটুকু দান? ও দান ঝুট।
চাই কোরবানি, চাই না দান।
রাখিতে ইজ্জত ইসলামের
শির চাই তোর, তোর ছেলের,
দেবে কি?কে আছ মুসলমান?


‌ওরে ফাঁকিবাজ, ফেরেব-বাজ,
আপনারে আর দিসনে লাজ,_
গরু ঘুুষ দিয়ে যাস পুলসেরাত,
কি দিবি মোহাম্মদে জওয়াব।

পশু কোরবানি দিস তখন
আজাদ-মুক্ত হবি যখন
জুলুম-মুক্ত হবে রে দ্বীন।—
কোরবানির আজ এই যে খুন
শিখা হয়ে যেন জ্বলে আগুন,
জালিমের যেন রাখে না চিন্।।
আমিন্ রাব্বিল আলামিন!!
আমিন রাব্বিল আলামিন!!

-Advertisement-
Recent  
Popular  

Our Facebook Page

-Advertisement-
-Advertisement-